সুনামগঞ্জ , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬ , ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই : প্রধানমন্ত্রী সাড়ে ৬ বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ হাজার ৭১২ ভালো কাজের প্রলোভনে ভারতে পাচার, গুয়াহাটি ক্যাম্পে মানবেতর জীবন সুনামগঞ্জের যুবকের বৈঠার টানেই চলে জীবন-সংসার রবীন্দ্রনাথের জীবন, কর্ম ও দর্শন নিয়ে সাহিত্য আড্ডা দিরাই বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ বিরোধ তুঙ্গে কিসের হাসিনা, তার চেহারা কি দেখা গেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ভারত সমর্থন করে না : জয়সওয়াল তাহিরপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় দিরাই-শাল্লার উন্নয়ন করতে চাই : এমপি নাছির চৌধুরী গ্রামেগঞ্জে ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং, ক্ষুব্ধ গ্রাহক সব হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশ হাইকোর্টের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত সুরমা নদীর পাড় যেন ময়লার ভাগাড় সুরমা নদীর ভাঙন অব্যাহত : অস্তিত্ব সংকটে বাউসা-কেশবপুর গ্রাম বেহাল সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল একটি কলেজের অভাবে অনিশ্চয়তায় হাওরের শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন থামে মাধ্যমিকেই পাল্টা সংবাদ সম্মেলন রফিকুল ইসলামের প্রতিপক্ষের সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস সুনামগঞ্জে গ্যাস সংকট চুলা জ্বলে না, পাম্পে দীর্ঘ লাইন

বৈঠার টানেই চলে জীবন-সংসার

  • আপলোড সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০১:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০১:৪৮:৩৫ অপরাহ্ন
বৈঠার টানেই চলে জীবন-সংসার
বিশেষ প্রতিনিধি::
এক পাশে নদী, অন্য পাশে অপেক্ষমাণ মানুষ। মাঝখানে একটি ভাঙাচোরা খেয়া নৌকা আর বৈঠা হাতে মাঝি জিল্লু মিয়া। প্রতিদিনের এই দৃশ্যই শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ঘোড়াডুম্বুর-আলমপুর খেয়াঘাটের বাস্তবতা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বোকা নদীর দুই পাড়ের শত শত মানুষকে পারাপার করান তিনি। আর বৈঠার প্রতিটি টানে শুধু মানুষই নদী পার হন না, এগিয়ে চলে তাঁর নিজের জীবনসংগ্রামও। দীর্ঘদিন ধরে বোকা নদীর এই খেয়াঘাটে যাত্রী পারাপারের দায়িত্ব পালন করছেন জিল্লু মিয়া। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রমের পর দিন শেষে তাঁর হাতে আসে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এই সামান্য আয় দিয়েই কোনোমতে চলে পরিবারের ভরণপোষণ। নদীর পাড়েই পলিথিনে মোড়ানো একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে বসবাস করেন ভূমিহীন জিল্লু মিয়া। চারদিকে নদী আর নদীভাঙনের স্থায়ী শঙ্কা। যে কোনো সময় নদীর করাল গ্রাসে হারিয়ে যেতে পারে তাঁর শেষ আশ্রয়টুকুও। তারপরও থেমে থাকার সুযোগ নেই। কারণ নৌকার বৈঠা থেমে গেলে থেমে যাবে পরিবারের একমাত্র আয়ের পথ। তাই প্রতিদিন ভাঙাচোরা নৌকাটিকে সঙ্গী করেই নদীতে নামেন তিনি। বোকা নদীর এই খেয়া শুধু একটি পারাপারের মাধ্যম নয়। এটি আলমপুর, ঘোড়াডুম্বুর, ডিগারকান্দি, নাজিমপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের ভরসা। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী, চাকরিজীবীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এই খেয়ার ওপর নির্ভর করেই নদী পারাপার করেন। স্থানীয়দের কাছে জিল্লু মিয়া কেবল একজন মাঝি নন, তিনি এই জনপদের অপরিহার্য অংশ। মাঝি জিল্লু মিয়া বলেন, এই খেয়া নৌকা চালিয়েই দীর্ঘদিন ধরে সংসার চালাচ্ছি। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। এই টাকা দিয়ে সংসার চালানো খুব কষ্টের। তারপরও মানুষের পারাপারের সুবিধার কথা ভেবে প্রতিদিন নদীতে নামি। যতদিন শরীরে শক্তি থাকবে, ততদিন এই কাজ করে যেতে চাই। স্থানীয়রা বলেন, আমাদের নিত্যদিনের যাতায়াত সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও মাঝি জিল্লু মিয়া আজও রয়ে গেছেন অবহেলিত। তাঁর ব্যবহৃত নৌকাটি অনেক পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁকে একটি নতুন ও নিরাপদ খেয়া নৌকা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়া হলে তাঁর জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি আরও নিরাপদ হবে নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াত। স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, বোকা নদীর এই খেয়া দিয়ে প্রতিদিন অনেক মানুষ যাতায়াত করেন। জিল্লু মিয়া নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষ পারাপার করছেন। তাঁর নৌকা না থাকলে স্থানীয়দের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স